"This could be today, Grandma!"
১।
কাতারের লুসেল স্টেডিয়ামের সেন্টার সার্কেলের কাছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই দল। দুই দল, অর্থাৎ ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স। নব্বই মিনিট, এক্সট্রা টাইমে খেলার ফলাফল ৩-৩ থাকার কারণে, অবশেষে পেনাল্টি শুটআউটে ভাগ্য নির্ধারণের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তারা।
চারটি পেনাল্টিতে ফ্রান্স কেবলমাত্র ২ টি গোল করতে পেরেছে। এদিকে তিনটি পেনাল্টি নিয়ে তিনটিতেই গোল করা আর্জেন্টিনা দল শিকারি বাঘের মতো পেয়ে গেছে রক্তের গন্ধ। অথচ সারা বিশ্বের চোখ কিন্তু এখন রয়েছে চতুর্থ পেনাল্টি নিতে বক্সের দিকে এগিয়ে যাওয়া গনজ্যালো মন্টিয়েলের দিকে। গোল দিলেই দীর্ঘ ৩৬ বছর পর, ১৮ ক্যারটের সোনালি ট্রফিটি হাতে উঠবে আর্জেন্টিনার।
তবুও ছিলেন একজন। এমন চাপের মুহূর্তেও মনোযোগ আকর্ষণ করে নেওয়া, সহযোদ্ধাদের সাথে সার্কেলের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একজন। তর্কসাপেক্ষে এই মুহূর্তে যিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার, মাঠের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। অন্যদের মতো তাঁর মুখেও আশা-আতঙ্কের মিশ্রিত ছাপ। যাঁকে আপামর বিশ্ব একডাকে চেনে লিওনেল মেসি নামে।
অসংখ্য দৃষ্টির মতো প্রচুর ক্যামেরার লেন্সও তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। মন্টিয়েল তখনও পেনাল্টি নেননি। আকাশের দিকে একঝলক তাকিয়ে স্বগতোক্তির মতো কয়েকটি শব্দ উচ্চারণ করলেন লিওনেল। কী বললেন, ঠিক বোঝা গেল না। দর্শকদের সর্বোচ্চ গর্জনে তখন ঢেকে গেছে ডিসেম্বরের লুসেল।
একটু থেমে, শ্বাস নিয়ে রান-আপ নিতে শুরু করলেন মন্টিয়েল।
২।
১৯৯১ সাল। রোজারিওর স্যান্টা-ফে'তে ওই স্থানীয় এলাকার ফুটবল ক্লাবের মাঠে ঠাকুমা সিলিয়া কুচিত্তিনির হাত ধরে আসতো বছর চারেকের লিও। যেখানে প্র্যাকটিস করতো ১৯৮৬ ব্যাচের পাঁচ বছর বয়সী ছেলেরা। লিওর ভাই, কাজিনরাও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে খেলতো।
সেদিন প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরুর আগে একজন প্লেয়ার কম পড়ল। কোচের দিকে এগিয়ে গেলেন সিলিয়া। লিওর দিকে উদ্দেশ করে বললেন, "Let him play, let him play." ম্যানেজার কিছুতেই রাজি হলেন না। ছোটখাটো চেহারার লিওকে দেখে তিনি বললেন, "How can we let him play? He is too small, he can not play!" সিলিয়া তবু জোর করেছিলেন কোচকে। ওই ক্লাবে এবং এলাকায় সিলিয়াকে সবাই ভালোবাসতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন। সেই সম্ভ্রম থেকেই কোচ সিলিয়ার কথা মেনে নেন। লিওকে সেদিন খেলতে নিয়েছিলেন তিনি। আর চার বছর বয়সী লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচিত্তিনি তার থেকে বয়সে ও চেহারায় বড় প্লেয়ারদের সাথে খেলে দু'টি গোল করেছিলেন। ম্যাচ শেষে সিলিয়া কোচকে বলেছিলেন, "Pay him for his football shoes, I will take him to the training."
গ্রোথ হরমোন ডেফিশিয়েন্সি ধরা পড়েছিল লিওর। নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাব, নিজের পরিজন, ঘর, দেশ ছেড়ে লিওনেল পাড়ি দিয়েছিলেন সুদূর স্পেনের বার্সেলোনার উদ্দেশ্যে। এফসি বার্সেলোনার বিশ্বখ্যাত লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতেই ধীরে ধীরে তাঁর 'লিওনেল মেসি' হয়ে ওঠা। ক্লাবের হয়ে ১৭ বছর বয়সে সিনিয়র টিমে ডেবিউ থেকে শুরু করে ক্লাবের সর্বশ্রেষ্ঠ প্লেয়ার হয়ে ওঠার যাত্রাপথে কখনওই মেসি ভোলেননি, কার হাত ধরে ফুটবলের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন তিনি। যদিও মেসির বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা, তাঁর সাফল্যের কিছুই দেখে যেতে পারেননি সিলিয়া। ১৯৯৮ সালে মেসির যখন মাত্র ১১ বছর বয়স, তখনই সিলিয়া পরলোকগত হন। তাই পরবর্তীতে বার্সেলোনার হয়ে, প্যারিস সাঁ জারমাঁর হয়ে কিংবা আর্জেন্টিনার জার্সিতে, মেসি যখনই গোল করেছেন; সিংহভাগ ক্ষেত্রে আকাশের দিকে তাকিয়ে দু'হাতের তর্জনী দিয়ে ইঙ্গিত করে উদযাপন করেছেন সেই গোল– যা তিনি করেন একমাত্র তাঁর ঠাকুমার উদ্দেশ্যে!
৩।
ডিয়ারিও স্পোর্ট, ডেইলিমেইল, দেপর্টিভো প্রভৃতি প্রচুর সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মেসি বলেছেন, একটি বিশ্বকাপের জন্য তিনি তাঁর সমস্ত ব্যক্তিগত আওয়ার্ড ফিরিয়ে দিতে রাজি। সেই মুহূর্তের সামনে এসে তিনি যেন ফিরে গিয়েছিলেন তাঁর ছোটবেলায়।
তাই, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ কাতারের মাঠে জীবনের সবথেকে বড় মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি উচ্চারণ করেছিলেন কয়েকটি শব্দ– "Puede ser hoy abu", যার অর্থ করলে দাঁড়ায়, "This could be today, grandma!" 'this' অর্থে, বিশ্বকাপ জেতা!
মন্টিয়েল তাঁর শট গোলেই রেখেছিলেন। পেনাল্টিতে ৪-২ গোলে জিতে বিশ্বজয় করেছিলো আর্জেন্টিনা। মারাদোনার ঐতিহাসিক ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের ৩৬ বছর পর, আর্জেন্টিনার ফুটবলের বরপুত্রের হাতে উঠে এসেছিলো বিশ্বকাপ। 'The football poet', ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরির ভাষায় ফুটে ওঠে মেসির অনন্য অনুভূতি–
"Lionel Messi has conquered his final peak. Lionel Messi has shaken hands with paradise!"
হয়তো, স্বর্গত সিলিয়াও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আশীর্বাদের হাত, তাঁর প্রিয়তম লিওর জন্য!
Amazing one
ReplyDeleteThank you! ♥️
DeleteGoated Blog 🐐
ReplyDelete🐐 toh aap hai sir!
DeleteBahhhhh
ReplyDeleteThank youuu!♥️
DeleteI'm literally crying. Eta osadharon. ❤️
ReplyDeleteMeans a lot bhai! ♥️
Delete❤
ReplyDeleteThank you didi!♥️
DeleteBah bah 🤍
ReplyDeleteThank you rey!♥️
DeleteBesh
ReplyDeleteThanku Sir! ❤️
DeleteOutstanding ❤️
ReplyDeleteThank you brother!❤️
DeleteBesh valo lekha ❤️🫶
ReplyDeleteThanks a lot! ❤️
Delete😭❤️
ReplyDelete