পেপ গুয়ার্দিওলা: বার্সেলোনার পুনরূত্থান



'Come in.'

'Hello, mister.'

A small figure poked his head around the door, and spoke calmly. 'Don't worry, mister. We'll win it all. We're on the right path. Carry on like this, okay? We're playing brilliantly, we're enjoying training. Please, don't change anything,' said Andrés Iniesta.

Guardiola couldn't believe it.

The request was short, but heartfelt, deep. It caught Guardiola off guard, barely able even to respond. If it was a surprise that anyone should seek him out to say that, it was even more of a surprise that it was Iniesta, usually the silent man. It came as a shock, even more so when Iniesta closed by saying: '¡Vamos de puta madre!"
'De puta madre,' roughly translated as, 'We're in f**king great shape, we're playing bloody brilliantly."
'This year we're going to steamroller them all,' he added. And then he closed the door and left.

That's Andrés. He doesn't say much, only what he really has to. It's like scoring goals: he doesn't score often, either. But when it's needed, there he is.

Guardiola will never forget Cruyff defending him in print. And he will never forget Andrés appearing at his door. He'll never forget that they were right, too. At the end of the 2008-09 season, Barcelona had won six titles. All six.

- The Artist: Being Iniesta. 

ওপরের বিশেষ অংশটি তুলে দিলাম আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, 'The Artist: Being Iniesta' থেকে। হতাশাজনক একটি সিজনের পর, ২০০৮ সালে বার্সা ম্যানেজারের আসনে বসেন পেপ গুয়ার্দিওলা। চারিদিকে অসন্তোষ ও আশা-ভরসার মেঘ যুগপৎ জমা হয়েছিল সিনিয়র কোচিংয়ে একেবারেই অনভিজ্ঞ পেপকে ঘিরে। যে পরিস্থিতিতে পেপ দায়িত্ব নিয়েছিলেন কাতালান প্রদেশের ক্লাবটির, তার তুলনা একমাত্র করা যায় হঠাৎ আসা ঝড়ের সাথে, যা ওলটপালট করে দেয় আশ্রয়ের নিশ্চয়তা। 

এভাবেই এফসি বার্সেলোনা পা দেয় ২০০৮-০৯ সিজনে, এবং পেপ গুয়ার্দিওলা বিশ্বফুটবলের মানচিত্রে জানান দেন নিজের উপস্থিতি।  

 

এই যাত্রাপথের বর্ণনা শুরুর আগে পিছিয়ে যাওয়া দরকার কিছুটা সময়। ফ্র্যাঙ্ক রাইকার্ডের অধীন বার্সা সিনিয়র টিম তখন লা-লিগা টেবলে রয়েছে তৃতীয় স্থানে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের থেকে ২০ পয়েন্টে পিছিয়ে। সবেমাত্র আরেকটি ক্লাসিকোয় হার এবং একই সপ্তাহে দুটি ট্রফি জেতার সুযোগ হাতছাড়া করে টালমাটাল অবস্থায় বার্সা। ড্রেসিংরুমের নিজের নিয়ন্ত্রণও সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছিলেন রাইকার্ড। প্লেয়াররা নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন। দলের স্টার প্লেয়ার রোনাল্ডিনহো, স্যামুয়েল এটো তাঁদের ফর্ম হারাতে শুরু করেছিলেন। প্লেয়ারদের হাই স্যালারির কারণে বার্সার ফাইন্যান্সের অবস্থাও তথৈবচ। ভয় ছিল, অন্য স্টার প্লেয়ারদের পাশাপাশি মেসির মতো ইয়ং ট্যালেন্টকেও হয়তো ধরে রাখতে পারবে না বার্সেলোনা। 

প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তা বুঝতে পেরেছিলেন, কিছু নির্দিষ্ট অথচ সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন অত্যন্ত প্রয়োজন। সিজন শেষের আগের তিনি ঘোষণা করেন, রাইকার্ড পরবর্তী সিজনে কোচ থাকছেন না। বার্সার টেকনিক্যাল বোর্ড তখন হোসে মৌরিনহোর মতো দক্ষ কোচেরও ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন। যদিও ইয়োহান ক্রুইয়েফের মতানুসরণ করে বার্সেলোনা অবশেষে বার্সা বি দলের তৎকালীন কোচ জোসেপ 'পেপ' গুয়ার্দিওলাকে সিনিয়র দলের দায়িত্ব অর্পণ করেন। সিনিয়র কোনও দলকেই কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকা পেপকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়ায় মিডিয়ায় প্রবলভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন লাপোর্তা। 

পেপের বার্সা বি দলের সাথে রাইকার্ডের বার্সা সিনিয়র দলের একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই সময়ে। বার্সা বি সেই সিজনে চতুর্থ ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রখ্যাত জার্নালিস্ট গুইয়েম বালাগ এই ম্যাচের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, এই একটি ম্যাচেই পেপের ফুটবলের বিশেষত্ব বোঝা গিয়েছিল। প্র্যাকটিস ম্যাচটিতে সিনিয়র দল হেরে যায়। 'Total football' এর বহুপ্রচারিত ধারণাকে ঘষেমেজে নিজস্ব ফুটবল ঘরানা তৈরি করেন পেপ, যার মূলমন্ত্র ছিল 'Take the ball, pass the ball'। এই ঘরানা পরবর্তীতে আরও পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে বিখ্যাত হয়ে ওঠে 'Tiki-taka' নামে। 


বার্সাতে এসে প্রথমেই ড্রেসিংরুমের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন পেপ। প্লেয়ারদের মধ্যে সংঘর্ষ ক্রমশ শেষ হয়ে আসে। দলের ক্ষেত্রে তিনি লা-মাসিয়া অ্যাকাডেমি থেকে আসা ইয়ং ট্যালেন্ট যারা এতদিন বেঞ্চে ছিল বা খেলার সুযোগ বেশি পেতো না, তাদের সুযোগ দিলেন। নিজেদের সেরা সময় হারিয়ে ফেলা খেলোয়াড়দের (যেমন রোনাল্ডিনহো, ডেকো প্রমুখ) offload করলেন ট্রান্সফার মার্কেটে। তাঁর পছন্দের প্রোফাইলের কয়েকজন খেলোয়াড়কে সই করালেন দ্রুত অ্যাটাকিং ফুটবলের পাশাপাশি বল পজেশন থাকাকালীন ডিফেন্ড করায় আরও জোর দিলেন তিনি। 4-3-3 ফর্মেশন অনুসরণ করে গোলে ভিক্টর ভালদেস, দুই সেন্টার ব্যাক কার্লেস পুয়োল ও জেরার্ড পিকে এবং ফুলব্যাক হিসেবে এরিক আবিদাল ও ড্যানি আলভেসকে ফার্স্ট টিম প্ল্যানিংয়ে রাখলেন পেপ। তাঁর সিস্টেমে, ভালদেসের পা থেকে অ্যাটাক শুরু হয়ে সেন্টার ব্যাকের কাছে বল যায় প্রথমে। প্রতিপক্ষের High press এর ক্ষেত্রে ফুলব্যাকরা সাইডলাইনের দিকে আরও সরে যেতেন স্পেস তৈরি করার জন্য, যেখানে সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ইয়াইয়া তোরে এবং কখনও কখনও সের্জিও বুস্কেটস Deep drop করে ডিফেন্সে সহায়তা করতেন, ফলে ফুলব্যাকরা কিছুটা Overlap করলেও ডিফেন্সে 3v2 সিচুয়েশন তৈরি হতো এবং নিজেদের হাফে Numerical Supremacy বজায় থাকতো। মিডফিল্ডে থাকতেন দুই জিনিয়াস, জাভি হার্নান্দেজ এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ফরোয়ার্ডে থিয়েরি অঁরি, স্যামুয়েল এটো ও লিওনেল মেসি। মিডফিল্ড থেকে ball supply line দুটি উইংয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। উইঙ্গার রোলে মেসি ফাইনাল পাস, কাট-ইন করে পাস দেওয়া, চান্স তৈরি ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, আলভেসের ওভারল্যাপিংয়ের জন্য মেসি off the ball movement এ আরও স্পেস পেয়ে যেতেন। এই সিজনেরই শেষের দিকে, মেসি কিছুটা সেন্টার ফরোয়ার্ডের ধাঁচেও খেলেছেন, যেখানে স্যামুয়েল এটো চলে আসতেন ডানদিকে, রাইট উইঙ্গার হয়ে। ফলে প্রায় স্ট্রাইকার-হীন একটি সিস্টেম তৈরি হতো। পেপের ট্যাকটিক্সের সবথেকে আলোচ্য রোল, 'ফলস নাইন' এর এই-ই ছিল সূচনা, যেখানে মেসি ডিপ ড্রপ করে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রূপে প্লেমেকিংয়ে যোগদান করতে পারতেন এবং নাম্বার নাইন অর্থাৎ স্ট্রাইকারের দায়িত্বও পালন করতে পারতেন। একইসাথে Opponent player drag করে ডিফেন্সচেরা পাস খেলার সুযোগ তৈরি করে ফেলতেন, এবং ফাইনাল পাস রিসিভেও আরও ফ্রি হয়ে খেলতে থাকা ওয়াইড ফরোয়ার্ডদের সহায়তা করতেন। এছাড়াও বার্সেলোনার সাবস্টিটিউট হিসেবে ভরসাযোগ্য কিছু নাম জায়গা করে নিয়েছিল টিমলিস্টে, যেমন– রাফায়েল মার্কোয়েজ, সেডু কেইটা, সিলভিনহো, পেদ্রো, বোয়ান কার্কিচ প্রমুখ। 


টোটাল ফুটবলের নব্যতম ধারণাকে সঙ্গী করে পেপ গুয়ার্দিওলার এফসি বার্সেলোনার যাত্রা যদিও শুরু হয়েছিল বেশ খারাপভাবে। লিগের প্রথম ম্যাচেই Numancia দলের কাছে ০-১ গোলে হেরে যায় তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করে Racing Santander দলের কাছে। এমন শুরুতে হয়তো অনেকেই আশাহত হয়েছিলেন। হননি কেবলমাত্র ইয়োহান ক্রুইয়েফ। নিজের নিউজপেপার কলামে তিনি লিখেছিলেন– “I saw one of the best Barcelona performances for years.” 

ফিরে তাকাতে হয়নি পেপকে। ফিনিক্সের উত্থানের থেকেও চমকপ্রদ উত্থান ঘটেছিল বার্সেলোনার। কোপা দেল রে সেমিফাইনালে ম্যায়োরকাকে হারিয়ে ফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সিজনের প্রথম ট্রফি ঘরে তোলে তারা। পেপ জিতে নেন তাঁর প্রথম সিনিয়র ট্রফি। এর কিছুদিন পরেই, আর্চ-রাইভ্যাল রিয়াল মাদ্রিদকে ৬-২ গোলে হারিয়ে জিতে নেয় লা-লিগা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-০ হারিয়ে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে বার্সেলোনা, প্রথম এবং এখনও অবধি একমাত্র স্প্যানিশ ক্লাব হিসেবে 'ট্রেবল' জেতার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করে। 

এই রেকর্ডেই সন্তুষ্ট হয়নি পেপ ও তাঁর 'Inevitable' দল। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপারকাপ জিতে নেয় বার্সা। ইউয়েফা সুপারকাপে শাখতার দনেস্ককে ১-০ গোলে হারায় তারা। সিজনের ষষ্ঠ ট্রফি হিসেবে ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ডকাপের ফাইনালে এস্তুদিয়ান্তেসকে হারিয়ে এক মরশুমে ছয়টি ট্রফি অর্থাৎ 'সেক্সটুপল' জিতে বিশ্বের প্রথম ক্লাব হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল এফসি বার্সেলোনা।

সম্ভাব্য ১৯ টি ট্রফির মধ্যে ১৪ টি জিতে ২০১২ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখের পথে পা বাড়ান গুয়ার্দিওলা। কিন্তু চার বছরের এই সংক্ষিপ্ত সময়কালে পাসিং ফুটবল তিকিতাকা বা টোটাল ফুটবলের যে মনোগ্রাহী পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি, তা তাঁকে ফুটবলের অন্যতম জিনিয়াস হিসেবে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে। ২০১২ সালে বার্সা কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি খেলোয়াড় জর্জে ভালদানোর করা একটি উক্তিই তাঁর জন্য সর্বতোভাবে প্রযোজ্য– 

"He is the Steve Jobs of football; experimental, brave, a lover of beauty and innovative"..."He is a reference point in world football and rightly so. Barca have turned their football into a culture."



Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

"This could be today, Grandma!"

নেপলসের প্রেমিক

আর্সেনাল: 'দ্যা ইনভিন্সিবলস'